Monday, March 18, 2019

শাহারিয়া ভাইয়ের বিয়ে

অামি অামার জীবনে সব চেয়ে বেশী ভয় পাই অামার একমাত্র মামাকে। অথচ ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, অাজ অামাকে তার মুখোমুখি হতে হবে তার বড় মেয়ে নীলাকে জীবন সঙ্গী করবো সেই জন্য।
.
মামাকে যে শুধু অামি একা ভয় পাই তাও না, অামার মা এবং ছোট খালামনি তারাও প্রচন্ড রকমের ভয় পায়। উনারা তিন ভাই বোনের ভিতরে মামাই সবার বড়। কাজেই তাকে সকলে ভয় পায়।
.
অামার মনে অাছে ছোট বেলা একবার গ্রামে বেড়াতে যেয়ে গাছ থেকে চুরি করে অাম পেরে খেয়েছিলাম তা শোনার পর মামা বাশের কঞ্চি নিয়ে অামাকে দৌড়ানি দিয়েছিলেন। সেই দৌড়ানি খাবার পর থেকে অামি মামাকে বাঘের মতন ভয় পাই।
.
গ্রামে বেড়াতে গেলে অামি মামার থেকে যতটুকু দূরত্বে থাকা যায় থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই গ্রামে অামার দুষ্টমি ও খেলার এক মাত্র সাথী ছিল নীলা।
.
অার এই খেলার সাথী যখন গ্রাম থেকে শহরে এসে অামাদের বাসায় থেকে পড়াশোনা শুরু করলো। কখন যে তাকে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেও জানি না। দুজনেই দুজন কে ভালোবাসি। অামি যতটা মামাকে ভয় পাই তার চেয়ে কয়েক গুন বেশী ভয় পায় নীলা।
.
এবার ছুটিতে বাড়ি যাবার পর হুট করেই ফোন দিয়ে বললো। বাবা অামার বিয়ে ঠিক করেছে কি করবা করো। অামি বুঝে উঠতে পারলাম না কি করবো মামার সামনে দাঁড়ানোর মত সাহস অামার নেই।
.
.
প্রথমেই ছোট খালা মনির কাছে জানালাম। কিন্তু কোন লাভ হলো না হতশা হলাম খালার কথা শোনে। খালা মনি সোজা বলে দিলো বাবা অামার পক্ষে ভাইয়ার সাথে কথা বলা সম্ভব না। তার যে রাগ, তুই যদি অামার মেয়েকে ভালোবাসতি অামি এদিক সেদিক চিন্তা না করে সোজা তোর সাথে বিয়ে করিয়ে দিতাম। কিন্তু ভাইয়া কেমন তোর তো জানাই অাছে, শেষে সব দোষ অামার ঘাড়ে এসে পরবে।
.
.
কি করবো ভেবে না পেয়ে শেষে মা কে জানালাম। কিন্তু অামার নিজের মা অামাকে হতাশ করলেন। মা বললেন পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব পরেছিলো যে তোকে অামার একমাত্র ভাইয়ের মেয়ের সাথেই প্রেম করতে হবে। তুই যদি অন্যকোন মেয়ের সাথে প্রেম করতি প্রয়োজনে তুলে নিয়ে এসে দিতাম কিন্তু ভাইয়ার সাথে অামার কথা বলার মতই সাহস নেই। অাবার ও হতাশ হলাম।
.
.
অবশেষে ভেবে দেখলাম যে অামিও ছারবো না। মামা যদি একমাত্র সন্তান হয়ে থাকে। তবে অামি ও মামার একমাত্র ভাগিনা
সামনা সামনি যেয়ে লড়াই করবো। তাই বাবা, মা, খালামনি সবাইকে টেক্সকরে এখন অামি মামার বাড়ির ভিতরে একপাশে অামি। অন্যপাশে মামা অার নীলা দাঁড়ানো। অার এক পাশে খালামনি, মা, বাবা দাঁড়ানো।
.
.
ঐদিকে নীলা বার বার চোখের ইশারায় বলতাছে যেন কিছু না বলি। এদিকে মাও বার বার ইশারা করছে চলে যাবার জন্য।
কিন্তু সব কিছু অপেক্ষা করে অামি দৌড়ে যেয়ে মামাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। কান্নার সুরে বললাম মামা অামি অাপনার একমাত্র ভাগিনা অামাকে না জানিয়ে অাপনি নীলার বিয়ে ঠিক করে ফেললেন?
.
মামা অনেক চিন্তা করে বললেন বড্ড ভুল করে ফেলছি। তুই অামার একমাত্র ভাগিনা তোকে সবার অাগে দাওয়াত দেয়ার দরকার ছিল খুব অন্যায় করে ফেলছি। বল তুই কি চাস জীবনে তো কোন কিছু চাস নি বল নীলার বিয়া উপলক্ষে কি চাস তোকে তাই দিবো।
.
অামি মনে মনে মহা খুশি। মামাকে অাবার জড়িয়ে ধরে থাক মামা অামি যা চাইবো অাপনি দিতে পারবেন না। মামা বললো অামার একমাত্র ভাগিনা
জীবনে প্রথম বার অামার কাছে কিছু চাইবো অার অামি তাকে ফিরাবো এটা হতেই পারে না।
তোমরা সবাই সাক্ষী থাকো অামার ভাগিনা যা চাইবো অামি তাকে তাই দিবো।
মা, বাবা, খালামনি, নীলা সকলেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলো।
.
.
মামা বল বাবা তুই কি চাস। অামি লজ্জায় লাল হয়ে মামা অামি নীলাকে ভালোবাসি নীলাও অামাকে ভালোবাসে।
তাই অামি নীলাকে বিয়ে করতে চাই।
.
.
মামা হা হা করে হাসছেন একবার সবার দিকে তাকাচ্ছেন
একবার অামার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ধপাস করে অামার গায়ের উপর পরে গেলো।
.
.
এখন সবাই হাসপাতালে দাঁড়িয়ে অাছি। সকলে মিলে অামাকে বকাবাজি করতাছে। নির্লজ্জ বেহায়া বলে অামি সেদিকে কান দিচ্ছি না। অামার চিন্তা একটাই কখন মামা দুই চোখ মেলে তাকাবে। অবশেষে ডাক্তার ভিতর থেকে এসে বললেন তেমন কোন সমস্যা নেই একটু পেশার বেড়ে এমন হয়েছিল।
.
.
অামি মনে মনে টেনশনে অাছি এতো কিছু হয়ে গেল মামা কি অামাকে মেনে নিবে। নাকি অাবার ও দৌড়ানি দিবে। ভাবতে ভাবতেই মামা গোমরা মুখ করে বের হয়ে এলেন। এদিক ওদিক তাকিয়ে সোজা হাঁটা শুরু করলেন।
.
.
অামরাও সকলে তার পেছনে পেছনে হাঁটা শুরু করলাম। অাবার ও বাসায় এসে সকলে একই জায়গায় হলাম অাগের মত যে যার জায়গায়। মামা কাশি দিয়ে শুরু করলেন তুই অামার মেয়েকে বিয়ে করে কি খাওয়াবি। তুইতো বেকার। তোরে কথা দিছি যা তোরে মেয়ে দিয়ে দিলাম। কিন্তু কোন দিন কোন সমস্যা নিয়ে অামার বাড়িতে অাসবি না।
.
.
অামি মাথা নিচু করে অাচ্ছা অাসবো না। মা তোমরা তোমাদের ছেলের বৌকে তুলে নিয়ে চলো। মা কোমরে কাপড় বাঁধতে বাঁধতে তোর মত বেকারের বৌ অামি ঘরে তুলবো।
অামি করুণ চোখে বাবার দিকে তাকালাম। বাবা অামার দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে অাছে। বুঝলাম বাবা মায়ের মতের বিরুদ্ধে কোন দিনও যেতে পারবেন না।
.
.
অামি নিরিহ চোখে খালামনির দিতে তাকালাম। খালামনি দেখে তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো, খবরদার যদি ভুল করেও প্রেমম করেছিস
তাও যেন কোন বেকার ছেলের সাথে না হয়।
.
.
অামি রাগ করে ছুটে গেলাম নীলার কাছে চলো অামার সাথে একটা কিছু অামি ঠিকই করতে পারবো তোমাকে না খায়িয়ে রাখবো না। নীলা হাতটা ছাড়িয়ে বললো বাবা তো রাজিই অাছে তুমি একটা কিছু করে অামাকে নিয়ে যেও।
.
.
অামি বুঝে গেছি এখন অামার কি করতে হবে। অামি চিৎকার করে বুকো হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে মাটিতে শুয়ে পরলাম। সবাই দৌড়ে এসে কান্না শুরু করছে। মামা বলতে শুরু করছে অামার একমাত্র ভাগিনাকেই অামার মেয়ে জামাই বানাবো। বলেই দ্রুত নীলার যেখানে বিয়ে ঠিক করেছে সেখানে ফোন দিলো।
অামি তাদের কথা শুনছি অার মনে মনে হাসছি। অাহা অভিনয় মাঝে মাঝে অনেক কাজে লাগে।

সাপ / Snake

"এক বিষধর সাপের গল্প"😰
পৃথিবীতে এটি এমন একটি সাপ
, যেটা প্রতি ০.৫ সেকেন্ডে
একটু একটু করে বড় হতো।
সাপটি এতো বিষাক্ত তার মুখ
যদি তার শরীরের কোনো অংশ
স্পর্শ করতো তবে সে
সাথে সাথে মারা যেতো।
এটিই ছিল একমাত্র সাপ
যে কিনা নিজের বিষে
নিজেই মারা যেতো...😰😰
আর এই সাপ পাওয়া যেত --???
.👇
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.😱😱😱
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
শুধুমাত্র "Nokia 1100" মডেলের
মোবাইলের Snake game এ!!!😂😂
মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ🐸

Sunday, March 17, 2019

ছেচরা ভাই

সকালবেলা ঘুমিয়ে ছিলাম তখন আমার রুমে এসে আয়না খোঁজাখুঁজি করতে করতে একটা চিঠি হাতে পেয়েছে ছোটভাই ইমন। চিঠিটা পাশের বাসার ক্রাশকে উদ্দেশ্য করে লেখা,যদিও তাকে পাঠাবো এমন চিন্তাভাবনা কখনোই ছিল না। চিঠিটার ভেতরে ৯৯ লাইন "আমি আপনাকে ভালোবাসি" লিখে তার নাম উল্লেখ করা আছে।
ইমন আমাকে কিছুই জানাল না। আমার‌ও চিঠির ব্যাপারে আর মনে নেই। দুই তিনদিন পরে একদিন আমি পড়তে বসেছি ও আমার সামনে এসে বসল।
-একটা পাঞ্জাবি দেখেছি অমুক দোকানে,কি যে সুন্দর বললে বিশ্বাস করবি না। লাল পাঞ্জাবী।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গিফট কর।
আমি মুখ বাঁকিয়ে বললাম,আমার দায় পড়েছে? আমার নিজের‌ই পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কিছু কেনার প্লান নাই, টাকা-পয়সা নাই।
-হে হে তাই নাকি? পাশের বাসার দুলাভাইয়ের কাছ থেকে নিই তাইলে?
আমার ভেতর দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। অবাক হয়ে ওর দিকে তাকাতেই ও চিঠিটা বের করে নাকের সামনে ঝুলাতে লাগল। আমি নিজেকে সামলে চিঠিটা কেড়ে নিয়ে কুটিকুটি করে ছিঁড়তেই ও আরেকটা ফটোকপি বের করে বলল,কয়টা ছিড়বি?
আমার রীতিমতো কান্না চলে আসছে। ও বললো, বেশী না, পাঞ্জাবীটা বাবদ পাঁচ হাজার দিলেই হবে, ফিটিংসের ব্যাপার আছে আবার। দে!
আমি টাকা দিলাম। কিন্তু আমি জানি এর ফল আমাকে দীর্ঘদিন ভোগ করতে হবে।
রাতে টিভি অন করে আমার ফেভারিট হিন্দি শো টা দেখতেছি এইসময় ও এসে বললো,খেলা দে।
অন্যদিনের মতো কঠিন স্বরে ধমক দিতে গিয়েও ওর চোখের দিকে তাকিয়ে নীরবে রিমোটটা ওর হাতে দিয়ে চলে এলাম।
সকালে ও যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমি ওর জামাকাপড়, ড্রয়ার সব তন্নতন্ন করে খুঁজে সেই চিঠির দুইটা ফটোকপি উদ্ধার করে চুলার ভেতর ঢোকানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে চলে যাচ্ছি এমন সময় পাশ ফিরতে ফিরতে ও বলে উঠলো, এই শেষ না,আরো আছে অন্য জায়গায় রাখা আছে।
আমি এবার সত্যিই কেঁদে ফেললাম।
বললাম, আমি তোর বোন না? তোকে কত আদর করেছি ছোটবেলায় বল? তোকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছি,তোর সুসু পরিষ্কার করেছি..
ও বললো,আমার সেসব মনে নাই। আমার যতদূর মনে পড়ে তুই শুধু আমাকে বাঁশ‌ই দিয়েছিস।
ক্লাস ফোরে থাকতে একটা সাইকেলের জন্য বায়না ধরেছিলাম তুই কিনতে দিসনি, আব্বুকে উল্টা বুঝাইছিস যে এক্সিডেন্ট করব,হেনতেন। একটা আইফোনের শখ ছিল,আইফোনে খালি ভাব‌ই হয় ওর থেকে স্যামসাং কেনা ভালো ভুজুং ভাজুং দিয়ে আমাকে আইফোন কিনতে দিসনি,একটা ডিএসএলআর ক্যামেরার শখ ছিল এখন না, ইন্টার পাশ করার পরে বলে.....
আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে চলে এলাম। সত্যিই এগুলা আমি করেছি। তাই বলে এভাবে শোধ নেবে? বড়বোন বলে এতদিন যা যা করতে পারেনি সব‌ই এখন করবে।
মাসখানেক ধরে আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করে বিভিন্ন জিনিস ছিনতাই করে নিচ্ছে ইমন। কিছু বলতে গেলেই, "আম্মুউউউউ, তোমার জামাইকে দেখতে চাও?"..... বলে টান মারছে।
আব্বুর কাছ থেকে নেয়া হাতখরচ সব‌ই ইমনের পেছনে চলে যায় আমার। নিজের জন্য কিছুই থাকে না।
শুধু কি তাই! ও আমাকে যেভাবে লজ্জায় ফেলে তা বলার না। একদিন ও আর আমি বেরিয়েছি তখন পাশের বাসার ভাইয়াটাও বেরিয়েছে। আমাদের দেখে‌ সে বললো, কেমন আছো তোমরা?
ইমন দাঁত কেলিয়ে বললো, আমি কেমন আছি জানি না,আপা এখন চরম ভালো আছে..
বলতে বলতেই আমাকে হালকা একটা ধাক্কা দিল।
ইমনের ঘর‌ও পরিষ্কার করতে হয় আমাকে। সারাদিনের কলেজ, প্রাইভেট শেষে বাসায় আসতেই দেখব ও আমার রুমে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে। গম্ভীর গলায় বলবে, আমার ঘরটা খুব নোংরা একটু পরিষ্কার করে দে তো।
যদি বলি আমি এখন টায়ার্ড সাথে সাথে, "আম্মুউউউউ একটু শোনো" বলতে বলতে টান মারবে।
বাধ্য হয়ে ওর স্তুপ করে রাখা জামাকাপড় ভাঁজ করা থেকে শুরু করে পুরো ঘর পরিষ্কার করে আসতে হয় আমাকে।

রোমেন্টিক ভাবনা

আজও মেয়েটা বসে আছে বেলকনিতে আমি যতবার এ পথে এসেছি ততবার তাকে দেখেছি। কখনো দেখেছি বই হাতে নিমগ্ন হয়ে পড়ছে। কখনো দেখেছি আকাশের দিকে তাকিয়ে বিভোর হয়ে কী যেন ভাবছে। গরম কফিটা কখন যেন বরফ শীতল হয়ে গেছে মেয়েটা খেয়াল করেনি। আমার মনে একটা প্রশ্ন খেলা করতো তার কিসের এতো নীরবতা?? কিসের এতো নিশ্চুপতা!
ঠোঁটজোড়া শুকিয়ে বিরর্ণ হয়ে আছে যেন কতদিন ওই ঠোঁটে অন্য ঠোঁটের ছোঁয়া পায়নি। কতদিন যেন টকটকে লাল লিপিস্টিক ওই ঠোঁটে স্থান লাভ করেনি। মেয়েটা বিষণ্ণ একাকী থাকে সবসময় একটা নীল পাড়ের কালো শাড়ি পড়েছে। চোখে কাজল লেপ্টে আছে! কালো ব্লাউজ টা দেখা যাচ্ছে ওপাশ থেকে। কী যেন ভাবছে সে! ভাবনার অতোলে ডুবে আছে।

স্বাগতম

স্বাগতসম্ভাষণ সকলকে ব্লগে এন্টি হবার জন্য