সকালবেলা ঘুমিয়ে ছিলাম তখন আমার রুমে এসে আয়না খোঁজাখুঁজি করতে করতে একটা চিঠি হাতে পেয়েছে ছোটভাই ইমন। চিঠিটা পাশের বাসার ক্রাশকে উদ্দেশ্য করে লেখা,যদিও তাকে পাঠাবো এমন চিন্তাভাবনা কখনোই ছিল না। চিঠিটার ভেতরে ৯৯ লাইন "আমি আপনাকে ভালোবাসি" লিখে তার নাম উল্লেখ করা আছে।
ইমন আমাকে কিছুই জানাল না। আমারও চিঠির ব্যাপারে আর মনে নেই। দুই তিনদিন পরে একদিন আমি পড়তে বসেছি ও আমার সামনে এসে বসল।
-একটা পাঞ্জাবি দেখেছি অমুক দোকানে,কি যে সুন্দর বললে বিশ্বাস করবি না। লাল পাঞ্জাবী।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গিফট কর।
আমি মুখ বাঁকিয়ে বললাম,আমার দায় পড়েছে? আমার নিজেরই পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কিছু কেনার প্লান নাই, টাকা-পয়সা নাই।
-হে হে তাই নাকি? পাশের বাসার দুলাভাইয়ের কাছ থেকে নিই তাইলে?
আমার ভেতর দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। অবাক হয়ে ওর দিকে তাকাতেই ও চিঠিটা বের করে নাকের সামনে ঝুলাতে লাগল। আমি নিজেকে সামলে চিঠিটা কেড়ে নিয়ে কুটিকুটি করে ছিঁড়তেই ও আরেকটা ফটোকপি বের করে বলল,কয়টা ছিড়বি?
আমার রীতিমতো কান্না চলে আসছে। ও বললো, বেশী না, পাঞ্জাবীটা বাবদ পাঁচ হাজার দিলেই হবে, ফিটিংসের ব্যাপার আছে আবার। দে!
আমি টাকা দিলাম। কিন্তু আমি জানি এর ফল আমাকে দীর্ঘদিন ভোগ করতে হবে।
রাতে টিভি অন করে আমার ফেভারিট হিন্দি শো টা দেখতেছি এইসময় ও এসে বললো,খেলা দে।
অন্যদিনের মতো কঠিন স্বরে ধমক দিতে গিয়েও ওর চোখের দিকে তাকিয়ে নীরবে রিমোটটা ওর হাতে দিয়ে চলে এলাম।
সকালে ও যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমি ওর জামাকাপড়, ড্রয়ার সব তন্নতন্ন করে খুঁজে সেই চিঠির দুইটা ফটোকপি উদ্ধার করে চুলার ভেতর ঢোকানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে চলে যাচ্ছি এমন সময় পাশ ফিরতে ফিরতে ও বলে উঠলো, এই শেষ না,আরো আছে অন্য জায়গায় রাখা আছে।
আমি এবার সত্যিই কেঁদে ফেললাম।
বললাম, আমি তোর বোন না? তোকে কত আদর করেছি ছোটবেলায় বল? তোকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছি,তোর সুসু পরিষ্কার করেছি..
বললাম, আমি তোর বোন না? তোকে কত আদর করেছি ছোটবেলায় বল? তোকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছি,তোর সুসু পরিষ্কার করেছি..
ও বললো,আমার সেসব মনে নাই। আমার যতদূর মনে পড়ে তুই শুধু আমাকে বাঁশই দিয়েছিস।
ক্লাস ফোরে থাকতে একটা সাইকেলের জন্য বায়না ধরেছিলাম তুই কিনতে দিসনি, আব্বুকে উল্টা বুঝাইছিস যে এক্সিডেন্ট করব,হেনতেন। একটা আইফোনের শখ ছিল,আইফোনে খালি ভাবই হয় ওর থেকে স্যামসাং কেনা ভালো ভুজুং ভাজুং দিয়ে আমাকে আইফোন কিনতে দিসনি,একটা ডিএসএলআর ক্যামেরার শখ ছিল এখন না, ইন্টার পাশ করার পরে বলে.....
ক্লাস ফোরে থাকতে একটা সাইকেলের জন্য বায়না ধরেছিলাম তুই কিনতে দিসনি, আব্বুকে উল্টা বুঝাইছিস যে এক্সিডেন্ট করব,হেনতেন। একটা আইফোনের শখ ছিল,আইফোনে খালি ভাবই হয় ওর থেকে স্যামসাং কেনা ভালো ভুজুং ভাজুং দিয়ে আমাকে আইফোন কিনতে দিসনি,একটা ডিএসএলআর ক্যামেরার শখ ছিল এখন না, ইন্টার পাশ করার পরে বলে.....
আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে চলে এলাম। সত্যিই এগুলা আমি করেছি। তাই বলে এভাবে শোধ নেবে? বড়বোন বলে এতদিন যা যা করতে পারেনি সবই এখন করবে।
মাসখানেক ধরে আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করে বিভিন্ন জিনিস ছিনতাই করে নিচ্ছে ইমন। কিছু বলতে গেলেই, "আম্মুউউউউ, তোমার জামাইকে দেখতে চাও?"..... বলে টান মারছে।
আব্বুর কাছ থেকে নেয়া হাতখরচ সবই ইমনের পেছনে চলে যায় আমার। নিজের জন্য কিছুই থাকে না।
শুধু কি তাই! ও আমাকে যেভাবে লজ্জায় ফেলে তা বলার না। একদিন ও আর আমি বেরিয়েছি তখন পাশের বাসার ভাইয়াটাও বেরিয়েছে। আমাদের দেখে সে বললো, কেমন আছো তোমরা?
ইমন দাঁত কেলিয়ে বললো, আমি কেমন আছি জানি না,আপা এখন চরম ভালো আছে..
বলতে বলতেই আমাকে হালকা একটা ধাক্কা দিল।
ইমনের ঘরও পরিষ্কার করতে হয় আমাকে। সারাদিনের কলেজ, প্রাইভেট শেষে বাসায় আসতেই দেখব ও আমার রুমে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে। গম্ভীর গলায় বলবে, আমার ঘরটা খুব নোংরা একটু পরিষ্কার করে দে তো।
যদি বলি আমি এখন টায়ার্ড সাথে সাথে, "আম্মুউউউউ একটু শোনো" বলতে বলতে টান মারবে।
বাধ্য হয়ে ওর স্তুপ করে রাখা জামাকাপড় ভাঁজ করা থেকে শুরু করে পুরো ঘর পরিষ্কার করে আসতে হয় আমাকে।
No comments:
Post a Comment